অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে বাংলাদেশ। ডারউইনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে নয় উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় বলে মনে করছেন অধিনায়ক নাজমুল। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘এটা এখন পর্যন্ত যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। নিজে এবং দলের সবাইকে নিয়ে খুব খুশি ও গর্বিত। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। এই জয় পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন পেসাররা। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটই নেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান মাহমুদ একাই নেন ছয় উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের পাঁচ উইকেটের সঙ্গে বোলারদের ধারাবাহিকতায় ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। নাজমুল বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটে টেস্ট সংস্করণে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো পেস বোলারদের উত্থান। পাঁচ-ছয় বছর আগে আমরা পর্যাপ্ত টেস্ট খেলতাম না বলে পেস বোলাররাও টেস্ট খেলতে চাইত না। গত দুই-তিন বছরে আমরা অনেক টেস্ট খেলছি এবং ছেলেরা টেস্ট ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘তারা এখন টেস্ট খেলতে চায়, পারফর্ম করতে চায়, কারণ তারা বিশ্বমানের হতে চায়। এখন তাদের মানসিকতাটাও এমন। বিশেষ করে মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা তাদের টেস্ট ক্রিকেটে আরও বেশি মনোযোগী হতে উৎসাহিত করেছেন।’
বাংলাদেশের জয়ের ভিত আরও শক্ত করে দেন তানজিদ হাসান তামিম। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে এবং ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। তানজিদের প্রশংসা করে অধিনায়ক বলেন, ‘সে খুবই সম্ভাবনাময়। সাদা বলের ক্রিকেটে আমরা তাকে সব সময় আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে দেখি। কিন্তু এই টেস্টে সে নিজের চরিত্র দেখিয়েছে। খুব শান্ত ছিল এবং বলের ধরণ অনুযায়ী খেলেছে। টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করার সামর্থ্য তার আছে। টপ অর্ডারের ব্যাটার হিসেবে আমরা চাই কেউ দলের হয়ে বড় প্রভাব ফেলুক, সে এই ম্যাচে সেটা করে দেখিয়েছে।’ ডারউইনের জয়ের পর এবার ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। তবে নাজমুল জানেন, প্রথম টেস্টের জয়ই যথেষ্ট নয়। ম্যাকেতে একই ধরনের ক্রিকেট খেলতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেই প্রমাণ আছে। ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এই টেস্টের আগেও বলেছিলাম, পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এবারও একই কথা বলছি। আমরা যেভাবে এই টেস্টে প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি, সেশন ধরে খেলেছি, বোলাররা নিজেদের কাজ করেছে, ব্যাটাররা অবদান রেখেছে বিশেষ করে লোয়ার মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার যেভাবে রান করেছে, ম্যাকেতেও আমাদের সেভাবেই খেলতে হবে।’ অধিনায়কের চোখে এই ম্যাচে অধিনায়ক পুরো বাংলাদেশ দল।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘এখনই আমরা ফাইনালের দিকে তাকাচ্ছি না। পয়েন্ট টেবিল দেখলে অবশ্যই ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমি সব সময়ই বলি আগে দূরে না তাকিয়ে যেখানে খেলছি সেটা নিয়েই চিন্তা করা উচিত।
আমরা টেস্টে ভালো খেলছি কিন্তু এখনও ওরকম বড় দল না।’ দুর্দান্ত জয়ের পরও পা মাটিতে রাখছে বাংলাদেশ। নাজমুল বলেন, ‘আমরা বিশ্ব ক্রিকেটকে হয়তো একটা ভালো মেসেজ দিতে পেরেছি যে আমরা সব কন্ডিশনেই ভালো খেলতে পারি। এরকম কন্ডিশনে বেশি বেশি খেলতে পারলে আমাদের উন্নতিটাও আরও বেশি হবে।’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট হারের পর অস্টেলিয়ার মাটিতে ভালো করার আত্মবিশ্বাস ছিল নাজমুলদের।


